গরুটির নাম 'রানি'। শান্ত স্বভাব আর আচরণের দরুণ এমন নাম দেওয়া হয়েছে তাকে। এই গরুকে দেখতে গেল কয়েকদিনে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ ভীড় করছেন। আলোচনা চলছে জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতেও। এ যে সাধারণ কোনো গরু নয়। বলা হচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে ছোট উচ্চতার গরু এটি। মাত্র ২০ ইঞ্চি উচ্চতার এই গরু গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরু হিসেবে নাম লেখাতে যাচ্ছে।
বিশ্বের ছোট আকৃতির গরুটি লালন-পালন করা হচ্ছে ঢাকার আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের চারিগ্রাম এলাকায় শিকড় অ্যাগ্রো লিমিটেড নামের একটি খামারে।
খামারের ব্যবস্থাপক তানভীর হাসান জানালেন, শখের বসে প্রায় এক বছর আগে নওগাঁ থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের এক কৃষকের খামার থেকে গরুটি কেনা হয়। মূলত ভুটানের বক্সার ভুট্টি জাতের বামন গরু এটি। এরপর গরুটিকে লালন-পালন করা শুরু করা হয়।
সাভারের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণী চিকিৎসক মো. আতিকুজ্জামান বলেন, গরুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা তিনি করেছেন। এটার আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্যমতে, ভারতের কেরালায় মানিক্যাম নামের গরুটি সবচেয়ে ছোট গরুর স্বীকৃতি পায়। এর উচ্চতা ২৪ ইঞ্চি ও ওজন ৪০ কেজি। আর রানির উচ্চতা ২০ ইঞ্চি ও ওজন ২৬ কেজি।যার দাম উঠেছে সাড়ে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।
গরুটিকে বিশ্ব রেকর্ডে জায়গা করে দিতে ইতোমধ্যে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে এটির মালিক সাভারের ‘শিকড় এগ্রো লিমিটেড’।
পরীক্ষা নিরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে বিশ্বে ছোট গরুর রেকর্ডে ভারতকে পেছনে ফেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
গরু প্রজাতির জন্য দুই দাঁত উঠলেই প্রাপ্তবয়স্ক বিবেচনা করা হয়।গলায় বাধা ঘণ্টায় টুংটুং করে শব্দ করে সে যখন হাঁটে তখন পায়ের দিকে একটু মনোযোগ দিয়ে তাকালে অবশ্য মনে হবে হয়ত কোন জন্মগত ত্রুটি রয়েছে গাভীটির।
কিন্তু আসলে এটি ভুট্টি নামের একটি বিশেষ জাতের গাভী। এই প্রজাতি এমনিতেই খর্বাকৃতি হয়ে থাকে। কিন্তু সেই তুলনায়ও রানী অনেক বেশি খর্বাকৃতি।কোম্পানিটির ম্যানেজার এমএ হাসান হাওলাদার বলছিলেন,আকারে ছোট হওয়ার কারণে রানী খামারের অন্য গরুদের ভয় পায়।
"তাই তাকে আলাদা রাখা হয়। সে খুব একটা খায় না। দিনে দুইবার সামান্য পরিমাণে ভুষি ও খড় খায়। বাইরে ঘুরতে পছন্দ করে এবং কোলে নিলে খুশি হয় বলে মনে হয়।"


