করোনায় মাস্কও কার্যকর নয়?? | Corona Mask

 




এই মুহূর্তে করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ধরণটি ভোগাচ্ছে পুরো বিশ্বকে। 



বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালক ড. ট্রেড্রস আধানম গেব্রেইয়েসুস জানিয়েছেন, কমপক্ষে ৯৮টি দেশে ভারতে প্রথম শনাক্ত করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে।


ভ্যারিয়েন্টটি অত্যন্ত বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে তিনি জানালেন, এটির কাঠামোগত এবং চারিত্রিক রূপান্তর ঘটে চলেছে বলে । 


নতুন এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি যেসব দেশে ভ্যাকসিন কার্যক্রম ভালো হয়েছে সেখানেও ছড়াচ্ছে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যের সর্বোচ্চ সংস্থার এই কর্তা। 


প্রশ্ন উঠেছে মাস্ক কি তাহলে কার্যকর নয় করোনা মোকাবেলায়? করোনাকালে স্বাস্থ্য বিধি মানার প্রশ্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে দেখা হচ্ছে মাস্ক পড়াকে। দেশে দেশে এটি নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে, এখনো হচ্ছে। মানুষকে মাস্ক পড়ানোয় উদ্বুদ্ধ করতে রাষ্ট্রগুলো নানান উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। করা হচ্ছে জরিমানা এমনকি দেওয়া হচ্ছে কারাদণ্ডাদেশও। 

কিন্তু মাস্ক পড়েও লাভ কতটা হচ্ছে সেটি নিয়ে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে।  


যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অফ মিনেসোটা সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজ রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি’র পরিচালক, ‘এপিডেমিওলজিস্ট’, ডা. মাইকেল অস্টারহোম সিএনএন’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, “বহুল ব্যবহৃত মাস্কগুলোর মধ্যে অধিকাংশই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট কার্যকর নয়। সময় এসেছে সব ধরনের কাপড়ের মাস্ককে বাতিল করার। ব্যক্তিগতভাবে শুধু নাক মুখ ঢেকে রাখার ধারণাটির সঙ্গে আমি একমত নই।”


কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “এই ধারণার মানে হল কিছু একটা দিয়ে নাক আর মুখ ঢেখে রাখলেই কাজ শেষ। প্রকৃতপক্ষে কাপড়ের মাস্ক শুধু করোনাভাইরাস নয়, কোনো জীবাণুকেই আটকাতে পারে না।”


কাপড়ে মাস্কের অকার্যকারিতা তুলে ধরতে অস্টারহোম উদাহরণ হিসেবে সামনে এনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে চলতে থাকা দাবানলের।


তিনি বলেন, “প্রতি মুহূর্তেই মানুষ হয় শ্বাস নিচ্ছে অথবা ছাড়ছে। ওই দাবানল সামাল দিতে যারা কাজ করছেন তাদের প্রত্যেকেই মুখ কাপড় বেঁধে রাখছেন। তাদেরকে যদি প্রশ্ন করেন তো জানতে পারবেন তাদের প্রত্যেকেই ধোঁয়ার গন্ধ পাচ্ছেন নাক, মুখ বেঁধে রাখার পরও।”


তিনি আরও বলেন, “ভালো মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলার সময় এসেছে। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পারে এমন কার্যকর মাস্ক পরার পরামর্শ সাধারণ মানুষকে দিতে হবে, তাতেই একমাত্র এই ভাইরাসের সংক্রমণ দমানো সম্ভব সত্যিকার অর্থে।”




তাহলে কী ধরনের মাস্কে সুরক্ষা মিলবে? এমন প্রশ্নে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন ‘এন৯৫ রেস্পিরেটর’ মাস্ক ব্যবহারের। ডা. অস্টারহোম বলছেন, "এতে যে মানুষগুলো এখনও টিকা নিতে পারেননি কিংবা এখন পর্যন্ত একবারও আক্রান্ত হননি তাদের অনেক উপকার হবে। টিকা নেওয়ার পর আবারও সংক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।”


মাস্ক ও অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জামের উন্নয়নের পক্ষে অবশ্য অস্টারহোম একাই কথা বলছেন না।


যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন’য়ের সাবেক কমিশনার স্কট গোটলিব বলেন, “ডেল্টা ধরনের মতো ব্যপক সংক্রমণক্ষম ভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে হলে ভালোমানের মাস্ক ব্যবহার করা ছাড়া উপায় নেই।”



সময় এসেছে তাই গণহারে যে কোনো মাস্ক পড়ার কথা না ছড়িয়ে সঠিক মাস্কটি পড়ায় জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার। 



tag: 

কোন মাস্ক কার্যকর, করোনার মাস্ক, মাস্কের কার্যকারীতা, কোন মাস্ক ভালো, ডেল্টা ভেরিয়েন্ট, সার্জিকেল মাস্ক, কাপড়ের মাস্ক, বাংলাদেশে মাস্কের ব্যবহার, tma,