আপনাকে যদি প্রিয় মানুষের তালিকা করতে বলা হয় তাহলে সেখানে উপরের দিকেই থাকার কথা একটি নাম, বাবা। সন্তানের ভালোর জন্য জীবনের প্রায় সবকিছুই নির্দ্বিধায় ত্যাগ করতে হয় বাবাকে। আদর-শাসন আর বিশ্বস্ততার জায়গা হলো বাবা। বাবার মাধ্যমেই সন্তানের জীবনের শুরু। সন্তান বাবার ঋণ কখনো পরিমাপ করতেও পারে না। সেই বাবার প্রতি সম্মান জানাতে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর পালিত হয় বাবা দিবস।
প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় দিবসটি। আমেরিকার পশ্চিম ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় উনিশ শতকের প্রথমদিকে দিনটি পালিত শুরু হয়।
ইতিহাসের পাতায় বাবা দিবস
বাবা দিবস পালনের ইতিহাস নিয়ে মতভেদ আছে। আছে একাধিক গল্পও। তবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হিসেবে ধরা হয় সোনোরা লুইস স্মার্টের ঘটনাটি। ষষ্ঠ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মার্কিন এই নারীর মা মারা গেলে তার বাবা পরিবারটিকে বড় করে তোলেন।
১৯০৯ সালে সোনোরা গির্জার একটি বক্তব্যে মা দিবসের কথা জানতে পারেন। তখন তার মনে হলো, বাবার জন্যেও এরকম একটি দিবস থাকা উচিত।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন ধর্মযাজক তার এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন। ধারণা করা হয়, ১৯১০ সালের ১৯শে জুন প্রথমবারের মতো বাবা দিবসটি পালন করা হয়, যদিও তা আনুষ্ঠানিক ছিল না। এরপর পেরিয়েছে পাঁচ দশক। বাবা দিবস পায় নি আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি।
১৯৬৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন সিদ্ধান্ত নেন যে, প্রতি বছর জুনের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস হিসাবে পালন করা হবে।
ছয় বছর পর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এটিকে আইনে পরিণত করেন। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও বিভিন্ন দেশে দিবসটির উদযাপন শুরু হয়।
বাবা দিবস পালনের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?
বাবাদের প্রতি ভালোবাসা তো যখন তখনই প্রকাশ করা যায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে, ভালোবাসা প্রকাশের জন্য তাহলে আলাদা করে দিবস উদযাপনের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু!
বাবা-মা কে ভালোবাসার জন্য আসলে সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণের প্রয়োজন হয় না। আমাদের দিনগুলো সাজাতেই তারা সারাজীবন কাটিয়ে দেন। কিন্তু একটা দিন যদি শুধু তাদের মুখের হাসির দেখার জন্যই আয়োজন করা হয়, তাতে ক্ষতি কী? সন্তানদের কাছ থেকে খুব বেশি কিছু হয়তো আশাও করেন না তারা। কিন্তু সেই একটি দিনের হাসিই হয়তো তাদের বাঁচিয়ে রাখবে একটি বছর। ব্যস্ততায় ছুটে চলা সন্তানদের সাথে কাটানো একটি দিনই হয়তো বছর জুড়ে তাদের মুখে হাসি ফোটাবে সন্তানকে কাছে না পাবার অসংখ্য মুহূর্তে।
মায়ের জায়গা যেমন পৃথিবীতে কেউ নিতে পারে না, বাবার অভাবও তেমনি কেউ পূরণ করতে পারে না। যারা বাবা হারিয়েছে, তারাই শুধু বোঝে, বাবা ছাড়া পৃথিবীতে বেঁচে থাকা কতটা কঠিন। তাই বৃদ্ধ বয়সে বাবার ঐ ঘোলা চশমাতে আপনাকে ঝাপসা দেখা শুরু করার আগে, আপনার ব্যস্ত শিডিউল থেকে বছরের অন্তত একটা দিবস বাবাকে উপহার দিন। প্রতি বছরের ঐ একটা দিনই বাবার স্মৃতিতে আপনাকে কখনো ঘোলা হতে দেবে না।
বাংলাদেশে বাবা দিবস
বাংলাদেশে বাবা দিবস পালনের বিশেষ কোনো রীতি নেই। দিবসটি এদেশে পালন শুরু হয়েছেও বেশি দিন হয় নি। দিবস ঘিরে টেলিভিশনে প্রতি বছরই নাটক বা বাবা বিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন দেখা যায়। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এই দিবস ঘিরে তেমন কোনো আয়োজন দেখা যায় না।
ট্যাগ : বাবা দিবস কবে ২০২১, বাবা দিবস কবে 2021, বিশ্ব বাবা দিবস আজ, পিতৃ দিবস, বাবা দিবসের ইতিহাস, কিভাবে ভালো বাবা হওয়া যায়, ভালো বাবা হওয়ার গুণাবলি,

