১৭ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে শুরু হয়েছে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২১। প্রথমে অষ্ট্রেলিয়া এবং পরে ভারতে হওয়ার কথা থাকলেও সর্বশেষ আইসিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২০ সালের এই আসর।
কেন বারবার পেছালো আসর?
২০০৭ সালে প্রথম আয়োজন করা হয়েছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এরপর একে একে ছয়টি আসর দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। ২০১৬ সালের পর সর্বশেষ এবারের আসরটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল গত বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে, অস্ট্রেলিয়ায়।
কিন্তু করোনা পরিস্থিতি ওলটপালট করে দেয় সবকিছু। গেল বছর এক প্রকার স্থবিরই হয়ে পড়েছিল ক্রিকেটের সকল আয়োজন। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি সাপেক্ষে আইসিসি অষ্ট্রেলিয়ার পরিবর্তে এবারের আয়োজনটি ভারতে করার সিদ্ধান্ত নেয়। অষ্ট্রেলিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ২০২২ সালের আসর আয়োজনের। ভারতে অনুকূল পরিস্থিতি না থাকায় শেষমেশ মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজিত হচ্ছে এবারের সংস্করণটি৷
এ বছর ১৬টি দল অংশ নিচ্ছে এই আয়োজনে।
এবারের ফরম্যাট কেমন?
আইসিসির বৈশ্বিক আয়োজনগুলোয় বছর বছরই গেম ফরম্যাটে পরিবর্তন থাকে। বেশি দলের অংশগ্রহণ এবং খেলাটিকে উপভোগ্য করার চেষ্টা থেকে আইসিসির এমন উদ্যোগ। এ বছর যেমন রাউন্ড ওয়ান খেলছে আইসিসি র্যান্কিংয়ে নিচের দিকে থাকা আটটি দল। দুইটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলা এই রাউন্ডে প্রত্যেক গ্রুপ থেকে সেরা দুই দল অংশ নেবে সুপার টুয়েলভ রাউন্ডে, যেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় র্যান্কিংয়ের উপরের দিকের সেরা আট দল। সুপার টুয়েলভের খেলা শুরু ২৩ অক্টোবর। সুপার টুয়েলভও হবে দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে। ১০ ও ১১ নভেম্বর দুই সেমিফাইনাল শেষে ১৪ই নভেম্বর দুবাইতে হবে এই আসরের ফাইনাল।
বিগত আসরের চ্যাম্পিয়ন কারা?
এখন পর্যন্ত ছয়টি আসর হয়েছে বিশ্বকাপের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। এর মধ্যে শুধুমাত্র একটি দল দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১২ এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ক্যারিবিয়ানরা৷
২০১৬ সালে ইংল্যান্ড এবং ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শিরোপার স্বাদ নেয় তারা৷ শ্রীলঙ্কা অবশ্য পরের আসর অর্থাৎ ২০১৪ সালেও ফাইনালে গিয়েছিল। সেবার আর খালি হাতে ফিরতে হয় নি তাদের। চ্যাম্পিয়ন হয়েই বাড়ির পথ ধরে তারা। এছাড়া ২০০৭ সালে ভারত, ২০০৯ সালে পাকিস্তান এবং ২০১০ সালে ইংল্যান্ড হয় চ্যাম্পিয়ন। এবার কার ভাগ্যে আছে শিরোপার স্বাদ?
গ্যালারিতে দর্শক থাকবে তো?
করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্রিকেট সিরিজগুলোয় একপ্রকার দর্শকশূণ্যই দেখা গেছে স্টেডিয়ামগুলো। এমনও কিছু সিরিজ আয়োজন দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব, যেখানে স্টেডিয়ামে থাকা টিভি পর্দার মাধ্যমে দর্শকদের সংযুক্ত রাখা হয়েছে বাড়ি থেকে! টি-টোয়েন্টির বৈশ্বিক আসর নিয়েও তাই শঙ্কা ছিল দর্শক থাকবে কি না। আইসিসি অবশ্য দর্শক রাখারই পক্ষে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওমানের স্টেডিয়ামগুলোয় সর্বোচ্চ ৩ হাজার দর্শক মাঠে উপস্থিত থাকতে পারবে। আর আরব আমিরাতের তিন ভেণ্যুতে ( দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি) ৭০ শতাংশ দর্শক মাঠে ঢুকতে পারবে। তবে শর্ত হচ্ছে, করোনা ভ্যাকসিন নেওয়া এবং মাস্ক পড়েই প্রবেশ করতে হবে মাঠে।
প্রাইজমানি কত এবার?
ডলারের হিসেবে এবারের আসরের প্রাইজমানি ৫.৬ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন দলের কাছে যাবে ১৬ লাখ ডলার। রানারআপ দল পাবে এর অর্ধেক, ৮ লাখ ডলার৷ সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল পাবে ৪ লাখ ডলার করে।
সুপার টুয়েলভের ৩০ ম্যাচের প্রতিটিতে জয়ী দল পাবে ৪০ হাজার ডলার করে।
সুপার টুয়েলভ থেকে বাদ পড়া দলগুলোর জন্যও রয়েছে বরাদ্দ। প্রতিটি দলকে ৭০ হাজার ডলার করে দিবে আইসিসি।
প্রাথমিক পর্বে প্রতি ম্যাচ জেতার পুরস্কার ৪০ হাজার ডলারের। ১২ ম্যাচের এই প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়া দলগুলোকে দেওয়া হয়ে ৪০ হাজার ডলার করে।
প্রথমবার ডিআরস, আছে সুপার ওভারও
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এর আগে কখনো ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম বা ডিআরএস ব্যবহার করা হয় নি। এবারই প্রথম এই পদ্ধতির ব্যবহার করছে আইসিসি। প্রতি ইনিংস একটি দল দুইটি রিভিউ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
অন্যান্য বারের মতো এবারও আছে সুপার ওভার সুবিধা। দুই দলের মধ্যকার খেলা ড্র হলে একটি সুপার ওভার অনুষ্ঠিত হবে। এটি ততক্ষণই চলতে থাকবে যতক্ষণ কোনো ফল না আসে। আবহাওয়াজনিত কারণে যদি সুপার ওভার খেলা না হয় তাহলে ম্যাচটি ড্র বলেই মেনে নিতে হবে এবং দুই দল পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেবে।