Written by : Tanvir Mahatab Abir
১৭ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে শুরু হয়েছে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২১। প্রথমে অষ্ট্রেলিয়া এবং পরে ভারতে হওয়ার কথা থাকলেও সর্বশেষ আইসিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২০ সালের এই আসর। এর আগে বৈশ্বিক এই টুর্ণামেন্টে ছয়টি আসর দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব।
বিগত আসরের চ্যাম্পিয়ন কারা?
এখন পর্যন্ত ছয়টি আসর হয়েছে বিশ্বকাপের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। এর মধ্যে শুধুমাত্র একটি দল দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১২ এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ক্যারিবিয়ানরা৷
২০১৬ সালে ইংল্যান্ড এবং ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শিরোপার স্বাদ নেয় তারা৷ শ্রীলঙ্কা অবশ্য পরের আসর অর্থাৎ ২০১৪ সালেও ফাইনালে গিয়েছিল। সেবার আর খালি হাতে ফিরতে হয় নি তাদের। চ্যাম্পিয়ন হয়েই বাড়ির পথ ধরে তারা। এছাড়া ২০০৭ সালে ভারত, ২০০৯ সালে পাকিস্তান এবং ২০১০ সালে ইংল্যান্ড হয় চ্যাম্পিয়ন। এবার কার ভাগ্যে আছে শিরোপার স্বাদ?
গ্যালারিতে দর্শক থাকবে তো?
করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্রিকেট সিরিজগুলোয় একপ্রকার দর্শকশূণ্যই দেখা গেছে স্টেডিয়ামগুলো। এমনও কিছু সিরিজ আয়োজন দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব, যেখানে স্টেডিয়ামে থাকা টিভি পর্দার মাধ্যমে দর্শকদের সংযুক্ত রাখা হয়েছে বাড়ি থেকে! টি-টোয়েন্টির বৈশ্বিক আসর নিয়েও তাই শঙ্কা ছিল দর্শক থাকবে কি না। আইসিসি অবশ্য দর্শক রাখারই পক্ষে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওমানের স্টেডিয়ামগুলোয় সর্বোচ্চ ৩ হাজার দর্শক মাঠে উপস্থিত থাকতে পারবে। আর আরব আমিরাতের তিন ভেণ্যুতে ( দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি) ৭০ শতাংশ দর্শক মাঠে ঢুকতে পারবে। তবে শর্ত হচ্ছে, করোনা ভ্যাকসিন নেওয়া এবং মাস্ক পড়েই প্রবেশ করতে হবে মাঠে।
প্রাইজমানি কত এবার?
ডলারের হিসেবে এবারের আসরের প্রাইজমানি ৫.৬ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন দলের কাছে যাবে ১৬ লাখ ডলার। রানারআপ দল পাবে এর অর্ধেক, ৮ লাখ ডলার৷ সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল পাবে ৪ লাখ ডলার করে।
সুপার টুয়েলভের ৩০ ম্যাচের প্রতিটিতে জয়ী দল পাবে ৪০ হাজার ডলার করে।
সুপার টুয়েলভ থেকে বাদ পড়া দলগুলোর জন্যও রয়েছে বরাদ্দ। প্রতিটি দলকে ৭০ হাজার ডলার করে দিবে আইসিসি।
প্রাথমিক পর্বে প্রতি ম্যাচ জেতার পুরস্কার ৪০ হাজার ডলারের। ১২ ম্যাচের এই প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়া দলগুলোকে দেওয়া হয়ে ৪০ হাজার ডলার করে।
প্রথমবার ডিআরস, আছে সুপার ওভারও
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এর আগে কখনো ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম বা ডিআরএস ব্যবহার করা হয় নি। এবারই প্রথম এই পদ্ধতির ব্যবহার করছে আইসিসি। প্রতি ইনিংস একটি দল দুইটি রিভিউ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
আরো পড়ুন: ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খুঁটিনাটি
অন্যান্য বারের মতো এবারও আছে সুপার ওভার সুবিধা। দুই দলের মধ্যকার খেলা ড্র হলে একটি সুপার ওভার অনুষ্ঠিত হবে। এটি ততক্ষণই চলতে থাকবে যতক্ষণ কোনো ফল না আসে। আবহাওয়াজনিত কারণে যদি সুপার ওভার খেলা না হয় তাহলে ম্যাচটি ড্র বলেই মেনে নিতে হবে এবং দুই দল পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেবে।
ছক্কানামা
টি-টোয়েন্টি ম্যাচ মানেই চার-ছক্কার লড়াই। ২০ ওভারের ক্রিকেটে দর্শক একটি জমজমাট ম্যাচ উপহার পায় চার-ছক্কার ধুন্ধুমার লড়াইয়ের মাধ্যমেই। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশেষত ছক্কা নিয়ে আলাদা একটি ক্রেজ থাকেই। বৈশ্বিক আসরগুলোয় এটি নিয়ে উন্মাদনা বাড়ে বহুগুণ। বিগ হিটাররা তাই আলাদা কদরই পান বিশ্বকাপের মতো আসরে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গেল ছয় আসরে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার তালিকায় অবধারিতভাবেই এক নম্বরে আছেন ক্রিস গেইল। ক্যারিবিয়ান এই ব্যাটার ৬০টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। গেইলের মারা ছক্কার সংখ্যার ধারেকাছেও নেই কেউ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতের যুবরাজ সিং মেরেছেন ৩৩ টি ছক্কা। পরের তিনটি স্থানে আছেন যথাক্রমে অষ্ট্রেলিয়ার শেন ওয়াটসন (৩১টি), দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স (৩০ টি) এবং শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনে (২৫ টি)। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেরা পাঁচে থাকা কেউই এবারের আসরে খেলছেন না। দেখা যাক, আসর শেষে তালিকায় অদলবদল আসে কি না।
সবচেয়ে বেশি রান কার?
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের বন্যা বয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। গেল ছয় আসর দেখেছে তেমনই রানবন্যা। ছয়টি আসরে ব্যক্তিগত রানের ঝুলিতে সবচেয়ে বেশি রান পুরেছেন শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনে (১০১৬ রান)। তার মতো অবশ্য চার অংক ছুঁতে পারেন নি আর কেউ। ২য় স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলের রান ৯২০। আফসোস, গেইল এই আসরে খেলছেন না। না হলে চার অংক ছোঁয়াটা বোধহয় তার জন্য কোনো ব্যাপারই হতো না।
৮৯৭ রান নিয়ে পরের স্থানে থাকা শ্রীলঙ্কার তিলকরত্নে দিলশানও অবসর নিয়ে ফেলেছেন। ৪র্থ স্থানে থাকা ভারতের অধিনায়ক ভিরাট কোহলীর রান ৭৭৭। তার সামনে ভালো সুযোগ আছে তালিকার উপরের দিকে যাওয়ার। ৭১৭ রান নিয়ে ৫ম স্থানে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স।
ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের তালিকায় তামিম
ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোরের তালিকায় শুরুতেই যিনি আছেন তার সাথে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নাম। নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ৫৮ বলে ১২৩ রানের সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে, ২০১২ সালে। পরের চার স্থানে আছেন যথাক্রমে ক্রিস গেইল (১১৭), ইংল্যান্ডের অ্যালেক্স হেলস (১১৬), পাকিস্তানের আহমেদ শেহজাদ (১১১)। ৫ম স্থানে আছেন বাংলাদেশের তামিম ইকবাল। ২০১৬ সালে ওমানের বিপক্ষে ১০৩ রানের অপরাজিত ইনিংসটি খেলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। এই আসরে অবশ্য খেলছেন এই বাঁ হাতি ব্যাটার।
সবচেয়ে বেশি উইকেট কার?
সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। তালিকার শীর্ষে আছেন পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি (৩৯ উইকেট)। মাত্র একটি উইকেট কম নিয়ে পরের স্থানে শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা। ৩৬ উইকেট নিয়ে তয় স্থানে পাকিস্তানের স্পিনার সাঈদ আজমল। পরের দুই স্থানে যারা আছেন তাদের উইকেট সংখ্যা একই। ৩৫ উইকেট নিয়ে তালিকার ৪র্থ ও ৫ম স্থান দখল করেছেন শ্রীলঙ্কার অজন্তা মেন্ডিস এবং পাকিস্তানের ওমর গুল। এরা কেউই এবারের আসরে খেলছেন না।
সেরা বোলিং ফিগারে মুস্তাফিজ
এক ইনিংসে সেরা বোলিংয়ের তালিকার প্রথম দুইটি স্থানে আছেন দুই শ্রীলঙ্কান। প্রথমজন অজন্তা মেন্ডিস, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১২ সালে ৮ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। দ্বিতীয়জন বাংলাদেশের বর্তমান স্পিন কোচ রঙ্গনা হেরাথ। হেরাথ ২০১৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। একই দলের বিপক্ষে ২০০৯ সালে ৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ৩য় স্থানে আছেন পাকিস্তানের ওমর গুল। নেদারল্যান্ডসের আহসান মালিক আছেন ৪র্থ স্থানে। ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৯ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। তালিকার ৫ম স্থানে আছেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার খ্যাত মুস্তাফিজুর রহমান। ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ রান নিয়ে ফিজ নেন ৫ উইকেট।
রানবন্যার তালিকা
২০ ওভারের একটি ক্রিকেটে এক ইনিংসে কত রান হতে পারে? ১৩০,১৫০,২০০? টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখেছে এর চেয়েও বেশি দলীয় রান। ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই কেনিয়ার বিপক্ষে ২৬০ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। পরের পাঁচ আসরে আর কোনো দলই ভাঙ্গতে পারে নি এই রেকর্ড৷ সেই ম্যাচ শ্রীলঙ্কা জিতেছিল ১৭২ রানে। তালিকার ২য় স্থানে আছে ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের করা ২৩০ রান, প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। মজার বিষয় হচ্ছে, এই রান দ্বিতীয় ইনিংসে করে ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা করে ২২৯ রান। এটি আছে তালিকার ৩য় স্থানে। এত রান করেও রেহাই নেই!! তালিকার ৪র্থ স্থানে আছে ভারতের করা ২১৮ রান। ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই রান করেছিল ভারতীয়রা। ২১১ রান করে ৫ম স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৯ সালে এই রান করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
সর্বনিম্ন দলীয় স্কোরে চট্টগ্রাম
২০১৪ সালে এককভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করে বাংলাদেশ। সেবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হওয়া তিনটি ম্যাচ আছে সর্বনিম্ন দলীয় স্কোরের সেরা পাঁচের তালিকায়। ১ম স্থানে নেদারল্যান্ডসের করা ৩৯ রান, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। ২য় স্থানে নিউজিল্যান্ডের করা ৬০ রান, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। ৪র্থ স্থানে হংকংয়ের ৬৯ রান, প্রতিপক্ষ নেপাল। তালিকার অন্য দুই স্থানে আছে আয়ারল্যান্ড এবং বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬৮ রান করা আয়ারল্যান্ড আছে ৩য় স্থানে। ৫ম স্থানে আছে ৭০ রান করা বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের ম্যাচটিতে প্রতিপক্ষ ছিল নিউজিল্যান্ড।
tags: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়সূচি,টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কে কতবার নিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান,দলীয় সর্বোচ্চ স্কোর,বেশি ছক্কা,tma,tmabd,