অজয়ের মৃত্যুতে ট্রাক ড্রাইভারের কোনো দোষ ছিল না? | TmA



| নাইম হাসান |


অজয়দা আমার কোলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন!


অজয়দা সোনাপুর জিরো পয়েন্ট এর কাছেই সি এন জির সামনের বাম সাইডে বসা ছিলো! সম্ভবত ওনার চোখে ঘুম ছিলো, তাই নিজেকে সামলাতে না পেরে রাস্তায় পড়ে যান। ঠিক ঐ সময় সি এন জি এর বামে ছিলো একটি ট্রাক, যার পেছনের চাকার নিচে অজয়দা পড়েন। 


| বেহাল সড়কে ট্রাক চাপায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
 


পরক্ষণেই সবাই মিলে ওনাকে চাকার ফাঁক থেকে টেনে বের করলে উনি ছটফট করতে থাকেন, সবাই ভয়ে ঘাবড়ে যাওয়ায় কেউ ধরতেসিলোনা। আমি পাসে থাকা সিএনজিতে ওনাকে তুলি এবং সাথে সেই ট্রাক ড্রাইভার কে নেই। 


রাস্তার যে বেহাল দশা, সিএনজি আগাতেই পারতেসিলোনা। এর মধ্যে অজয়দা ছটফট করতেসিলো, নিঃশ্বাস নিতে পারতেসিলোনা। তাই আমি সিপিআর দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু বার্লিংটন মোড় পার হওয়ার পরই উনি প্রচন্ড ছটফট এবং ঝাকুনি দিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। এ পুরো সময় ট্রাক ড্রাইভার আমার সাথে ছিলো। ওনার নাম্বারও আমি নিয়ে রাখি। 


সদরে পৌছাতে প্রায় ৪৫ মি লেগেযায়। সদরে নেয়ার পর ডাঃ ওনাকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন ওনার পরিচয় জানতে চাইলে আমি দিতে পারিনি। পরে ওনার ফোন বের করে ওনারই আইডি থেকে একটা পোস্ট করি। 


এখানে কিছু কথাঃ ট্রাক ড্রাইভারের দোষ ছিলোনা। আমি পুরো ঘটনার শুরু থেকে ছিলাম। 


ভার্সিটির ভাইদের আন্দোলন হওয়া উচিত নিরাপদ সড়ক এবং নোয়াখালীর সড়ক সংস্কার এর জন্য। কেননা মাত্র ৫কি মি রাস্তা যেতে ৪৫মি সময় লেগেছিল। নতুবা অজয়দার ট্রিটমেন্ট করা হয়তো সম্ভব হতো। 


দ্বিতীয়ত সি এন জি তে জালি দরজা লাগানো বাধ্যতামূলক করা একান্ত জরুরি।  


ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। 


লেখক: শিক্ষার্থী, নোয়াখালী সরকারি কলেজ।