ওহী। আল্লাহ তা’আলা জীবরাঈল (আঃ) এর মাধ্যমে ইসলামের শেষ বাণীবাহক হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর কাছে যে বাণী, আয়াত কিংবা আদেশ পাঠাতেন সেটিই ওহী নামে পরিচিত।
ইবনুল কাইয়্যিম আল জাউজিয়া ওহীর বিভিন্ন রূপ নিয়ে আলোচনা করেছেন । শাইখ মুনীরুল ইসলাম ইবন জাকির সম্পাদিত ‘সীরাহ’ গ্রন্থে এই আলোচনার উল্লেখ আছে। দেখতে পারেন এখান থেকে। একইরকম আলোচনার উল্লেখ পাওয়া যায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মদীনা আল মোনাওয়ারা’র অধ্যাপক আল্লামা ছফিউর রহমান মোবারকপুরী রচিত ‘আর রাহিকুল মাখতূম’ গ্রন্থে ।
মোটামুটি ছয় প্রকারের ওহীর কথা জানা যায়৷
১. সত্য স্বপ্ন
এই উপায়েই রাসূল (সা.) প্রথম ওহী লাভ শুরু করেন। ওহী নাযিলের পূর্বে তিনি টানা ছয় মাস নবীজি নিয়মিত স্বপ্ন দেখতেন। রাতে যে স্বপ্ন দেখতেন পরদিন সেই স্বপ্ন সত্যি হতো। প্রশ্ন থাকে যে, স্বপ্ন তো আমরাও দেখি। সত্যিও হতে দেখি হরহামেশাই। কিন্তু সেটি কি ওহী? না। নবী রাসূলগন যে স্বপ্ন দেখতেন সেটি এক প্রকার ওহী হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। সাধারণ মানুষেরা যেসব স্বপ্ন দেখেন সেসবকে তিনটি প্রকারে ফেলেছেন রাসূল (সা.)। প্রথমটি হলো, সত্য স্বপ্ন। এই ধরণের স্বপ্ন সত্যি হয়। সত্য স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। আর খারাপ স্বপ্ন আসে শয়তান থেকে। শয়তানের পক্ষ থেকে আসা স্বপ্নটিই দ্বিতীয় প্রকারের স্বপ্ন। এই স্বপ্নের মাধ্যমে শয়তান রাসূলের উম্মতদের ক্ষতি করতে চায়। রাসূল (সা.) এই ধরণের স্বপ্ন কাউকে বলতে নিষেধ করে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলেছেন৷ তবে কেউ যদি পছন্দের স্বপ্ন দেখে তাহলে তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিত, অন্যদের বলাতেও বারণ নেই এই স্বপ্নের ক্ষেত্রে। তৃতীয়টি হচ্ছে সাধারণ স্বপ্ন। এগুলো এমন স্বপ্ন যা মানুষ দিনে ভাবে এবং রাতে স্বপ্নে তা দেখতে পায়। এগুলো মানুষের নফস থেকে আসে।
২. ফেরেশতার মাধ্যমে
এই ক্ষেত্রে ফেরেশতার মাধ্যমে ওহী আসলেও সরাসরি জীবরাঈল (আ.) সামনে হাজির হন নি।
৩. মানুষের আকৃতিতে আসা ফেরেশতার মাধ্যমে
এই প্রকারের ওহী নাযিলের জন্য জীবরাঈল (আ.) মানুষের রূপে প্রিয় নবী (সা.) এর কাছে আসতেন এবং আশেপাশের অন্যরাও তাকে দেখতে পেতেন।
৪. ফেরেশতা ঘন্টার মত শব্দ করে আসার মাধ্যমে
জীবরাঈল (আ.) যখন আসতেন তখন ঘন্টার মত আওয়াজ হতো। ধারণা করা হয়, আওয়াজটি ছিল তার পাখার। এভাবে যখন তিনি আসতেন তখন নবীজি (সা.) এর ওজন বেড়ে যেত৷ জীবরাঈল (আ.) নবীজিকে চেপে ধরতেন, তার উপর ভর করতেন। তাই ওজন বেড়ে যেত৷ একবার হযরত যায়েদ ইবনে সাবেতের উরুর ওপর নবীজির উরু থাকা অবস্থায় ওহী এলো, হযরত যায়েদ এত ভারী বোধ করলেন যে তাঁর উরু থেতলে যাওয়ার মত অবস্থা হলো।
৫. নিজ রূপে আসা ফেরেশতার মাধ্যমে
এমন ঘটনা দুইবার ঘটেছে। জীবরাঈল (আ.) যখন নিজের রূপেই আবির্ভূত হতেন, তখন তার পাখা এত বিশাল ছিল যে পুরো দিগন্ত ছেয়ে যেত৷ সূরা নাজম-এও এই প্রকারের ওহীর উল্লেখ আছে৷
৬. আল্লাহ তা’আলা সরাসরি কথা বলার মাধ্যমে
মেরাজের সময় এমন হয়েছিল। মহান আল্লাহ কোনো প্রকার মাধ্যম ছাড়াই রাসূল (সা.) এর সাথে কথা বলেছিলেন।
আরো পড়ুন :
১। জন্মদিন পালনে ইসলাম কী বলে?
২। ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়ে যা জানতেই হবে
৩। স্বপ্নে কী এমন ভয়ংকর শাস্তি দেখেছিলেন রাসূল (সা.)?