আড়াই বছর পর দেশে আয়োজিত হলো উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। এইচএসসিতে ৫টি এবং আলিমে একটি বিষয়ের মাধ্যমে গেল ডিসেম্বরে শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় বসেছিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২০ সালে পরীক্ষাটি হয়নি। শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছিল ‘অটোপাশ’।
একই কারণে এবারও তা যথাসময়ে নেওয়া হয় নি। সাধারণত প্রতিবছর এপ্রিলে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সেই হিসাবে ৮ মাস পরে পরীক্ষা হলো।
এবার ২ হাজার ৬২১টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ১৮৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন।
বিকল্প উপায়ে এইচএসসির ফল দেখুন
এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৭ জন। এদের মধ্যে দুই লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ জন বিজ্ঞান, ছয় লাখ ৫৬ হাজার ১৩২ জন মানবিক এবং দুই লাখ ২৭ হাজার ৫৫ জন বাণিজ্য বিভাগের।
এছাড়া এক লাখ ১৩ হাজার ১৪৪ জন মাদ্রাসা ও এক লাখ ৪৮ হাজার ৫০৩ জন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের।
বিশেষ পরিস্থিতিতে এবার সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে ছয়টি পত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সময় কমিয়ে আনা হয় দেড় ঘণ্টায়।
পরীক্ষা না নেওয়া হয়নি বাংলা ও ইংরেজির মতো আবশ্যিক বিষয়গুলোর; যেগুলোর মূল্যায়ন করা হবে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে।
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দেড় বছর পর এটাই দ্বিতীয় কোন পাবলিক পরীক্ষা।
এসএসসির মতোই এই পরীক্ষাও হচ্ছে সংক্ষিপ্ত (কাস্টমাইজড) সিলেবাসে। অনুরূপভাবে ১০০-এর পরিবর্তে ৫০ নম্বরে নেওয়া হচ্ছে পরীক্ষা। তবে পরীক্ষায় প্রশ্নের বিকল্পসংখ্যা আগের মতোই থাকছে। যেমন: বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের আগে ৮টি সৃজনশীল প্রশ্নের মধ্যে ৫টির উত্তর দিতে হতো। এখন ৮টির মধ্যে ২টির উত্তর দিতে হবে। মানবিক এবং বিজনেস স্টাডিজে ১১টির মধ্যে উত্তর করতে হবে ৩টি। এমসিকিউ-এর ক্ষেত্রে মানবিক ও বিজনেস স্টাডিজে ৩০টির মধ্যে ১৫টি আর বিজ্ঞানে ২৫টির মধ্যে ১২টির উত্তর করতে হবে। পরীক্ষার সময় তিন ঘণ্টার পরিবর্তে দেড় ঘণ্টা। অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় বেশি পাচ্ছে।
বিজ্ঞানে ২৫ নম্বরের ব্যাবহারিক, ২৫ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৫০ নম্বরের সিকিউ প্রশ্ন হতো। আর মানবিক ও বিজনেস স্টাডিজে ব্যাবহারিকবিহীন বিষয়ে ৭০ নম্বরে সিকিউ ও ৩০ নম্বরে এমসিকিউ পরীক্ষা হতো। এবারও নির্ধারিত পূর্ণমানের মধ্যে শিক্ষার্থী যা পাবে, সেটা শতভাগে রূপান্তর করা হবে। প্রত্যেক বিভাগে ৩টি করে বিষয়ের পরীক্ষা হচ্ছে। বাকি বিষয়ে জেএসসি এবং এসএসসিতে প্রাপ্ত নম্বরের প্রবণতা দেখে নম্বর দিয়ে এইচএসসি ও সমমানের ফল দেওয়া হবে। এ বছরও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিদেশের আটটি কেন্দ্রে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষা আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে জেদ্দায় ১১৪, রিয়াদে ৭৪, ত্রিপলিতে ২, দোহায় ৭৯, দুবাইয়ে ২৬, বাহরাইনে ৫৮, সাহাম ও ওমানে ১৯ জনসহ ৪০৬ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন।
এইচএসসি রেজাল্ট সবার আগে জানার উপায়
এইচএসসি রেজাল্ট ঘরে বসে জানতে দরকার হবে একটি সচল টেলিটক সিম।
মোবাইলের Message অপশনে গিয়ে 16222 নম্বরে নিম্নোক্ত ফরম্যাটে SMS করে জেনে নিতে পারেন কাঙ্ক্ষিত ফলাফল।
HSC এর জন্যঃ
HSC<space>BOARD<space>ROLL<space>YEAR
মাদ্রাসা বোর্ডের এর জন্যঃ
ALIM<space>MAD<space>ROLL<space>YEAR
কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের জন্যঃ
HSC<space>TEC<space>ROLL<space>YEAR
ওয়েবসাইট থেকে এইচএসসির ফল জানার উপায়
ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল জানতে ভিজিট করতে পারেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফলাফল বিষয়ক ওয়েবসাইটের এই লিঙ্কে।