এইচএসসি : বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা কোন লেখকের বই পড়বেন? | TmA

 


Jawad Tahsin Snaha





আমরা যারা এইচএসসি পাশ করেছি, তাদের কাছে জুনিয়রদের থেকে সবচেয়ে কমন প্রশ্ন যেটা আসে সেটা হলো, "কোন বই ভালো?"। এই মিলিয়ন ডলার প্রশ্নের জবাব দেয়ার চেষ্টা করছি না আমি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে কোন বই পড়ে কেমন মনে হয়েছে, তার একটা ছোট রিভিউ লেখার চেষ্টা করেছি। এটা নিতান্ত ব্যক্তিগত অভিমত। তবে আশা রাখছি যারা মাত্র এইচএসসিতে উঠেছি বা যারা ফার্স্ট ইয়ার শেষ করার পরেও আসলে কি পড়বো কুলাতে পারছি না, তাদের কাজে লাগবে।

ফিজিক্স

আমার ব্যক্তিগত পছন্দ তপন স্যারের বই। কারণ এখানে থিউরিগুলো সোজা ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। "পড়লে বোঝা যায়" টাইপের ব্যাপারস্যাপার। ইসহাক স্যারের বই অনেকে ফলো করে ফিজিক্সের ম্যাথগুলো সলভ করার জন্য। ওখানে ম্যাথের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এছাড়া থিউরি গুলোর মাঝখানে রিলেটেবল ম্যাথ এক্সাম্পল দেয়ায় অনেকে পছন্দ করে এই বইটি। তবে ইসহাক স্যারের বই এর থিউরি আমার কাছে জটিল মনে হতো। আরেকটা বই এর কথা বলতে চাই।



সেটা গিয়াসউদ্দিন স্যারের বই। আমি ব্যক্তিগতভাবে গিয়াস স্যারের পুরানো সিলেবাসের বইটা পড়তাম ফিজিক্সের জন্য। ওটাই আমাকে থিউরি স্ট্রং করতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। এছাড়া গিয়াস স্যারের "গানিতিক পদার্থবিজ্ঞান" বইটা খুবই ভালো। সব রাইটারের বই এর ম্যাথের সলিউশন দেয়া আছে বিধায় এই বইটা সংগ্রহে রাখা উচিত বলে আমি মনে করি।

রসায়ন

এখানে মোটামোটি অপ্রতিদ্বন্দী হাজারী স্যারের বই। সবখানে এটাই পড়ানো হয়। এবং এখান থেকেই প্রশ্ন বেশি আসে বলে সবাই বিশ্বাস করে। কবীর স্যারের বইগুলোও গোছানো। স্পেশালী অনেকে কবীর স্যারের বই থেকে জৈব যৌগ পড়তে পছন্দ করে। আমার সংগ্রহে আরেকটি বই ছিলো। সেটি নটরডেম কলেজের বিপ্লব স্যারের লেখা বই। বইটা একদম "জিরো ফ্যাট"। মানে পিন পয়েন্ট সব লেখা। কোনো এক্সট্রা ইনফো দিয়ে ভারী করার চেষ্টা করা হয় নি। আমার রসায়নে দূর্বলতা কাটাতে এই বই সাহায্য করেছিলো। এটা পড়ে দেখতে পারো কেউ চাইলে। আমার মনে হয় এটা ভাল বই। গুহ স্যারের বইটা অনেকে পড়ে৷ সুন্দর কালারফুল বই। আমি কখনো আসলে পড়ে কুলিয়ে উঠতে পারি নি উনার বই। এজন্য এই বই নিয়ে ভালো মন্দ বলতে পারছি না। অনারেবল ম্যানশন হিসেবে একটা বই এর কথা বলবো। "মনিমুল হক-আনিকা অনি" স্যারের লেখা একটি গাণিতিক রসায়ন। খুবই কাজে দিবে একটা টাইমে। বই খুবই ছোট। একদম পাতলা। কিন্তু সোনার খনি!

গণিত

এখানে প্রচুর ভ্যারাইটি। কেতাব স্যার, এস ইউ আহমেদ স্যার, রূপন্তী পাবলিকেশান, সিসটেক এর বই বেশি চলছে আজকাল। সবগুলো বই-ই খুব গোছানো। তথাকথিত "হাইভোল্টেজ" কলেজগুলোতে এসইউ আহমেদ স্যারের বই ফলো করে সাধারণত। অনেকেই আজকাল রূপন্তি আর সিসটেকও ফলো করে। এখানে ম্যাথগুলো টাইপ টাইপ ভাগ করে দেয়া। দেখতে ভালো লাগে।




এখান আমি একটু "বায়াসড" ভাবে কেতাব উদ্দিন স্যারের বইটা ফলো করতে বলবো। এই বই থেকে এডমিশান টেস্টে সরাসরি কমন আসার রেকর্ড আছে। স্পেশালি যারা ইঞ্জিনিয়ারিং টার্গেটে এগুচ্ছো, তারা মাথায় রেখো ব্যাপারটা। কেতাব উদ্দিন স্যারের বই খুব কাজে দেয়।

বায়োলজি

এটা মোটামোটি স্ট্রেট কাট। বোটানিতে আবুল হাসান স্যার, জুলোজিতে আজমল স্যার। কিছুক্ষেত্রে আলীম স্যার। যার যেটা ইচ্ছা পড়ে ফেলো। যারা মেডিকেলের প্রিপারেশান নিয়েছে, তারা হয়তো ভালো বলতে পারবে আরো।
শেষ কথাঃ
বাজারে বই অনেক। রাস্তায় মানুষ অনেক। একেকজনের একেক বই পছন্দ। বই আর এন্ড্রয়েড এক জিনিস। ওপ্পো, ভিভো, শাওমি কোনো একটা চালানো জানলে বাকিগুলো এমনিই চালানো যায়। বই তোমাকে কোথাও টিকিয়ে দিবে না। তোমার নিজের পড়ে টিকতে হবে। ভালো করতে হবে। মানুষ ৫ টা করে বই কিনেও চান্স পায়, অনেকে ধার করা বই পড়েও চান্স পায়। একটা প্রো টিপস দিই। একদম নতুন এডিশনের বই কেনা মোটেও জরুরি না। তুমি চাইলে পুরানো বই কিনতে পারো। ৫০-৬০% টাকা বেচে যাবে। অথবা একজন রাইটারের বই নতুন এডিশনের কিনে বাকি রাইটারগুলো পুরানো এডিশনেরও কিনতে পারো। তবে একটা বই ভালোভাবে আগাগোড়া শেষ করতে পারলেও কাজ শেষ। এর বেশি লাগে না আসলে। পছন্দমতো যেকোনো একটা বইতেই ফোকাস করার পরামর্শ থাকলো। সবার জন্য শুভকামনা।


Writer: Applied Chemistry And Chemical Engineering at University of Dhaka