তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব কতটা? | TmA

 




রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ দুই প্রকার। একটা হলো, সেই সুন্নাহ যার ওপর গুরুত্ব বেশি দেওয়া হয়েছে। আরেকটা হলো, অতিরিক্ত সুন্নাহ হিসেবে যে সুন্নাহ প্রমাণিত হয়েছে। তাহাজ্জুদ এই পর্যায়ের সালাত। তাহাজ্জুদ সালাত নফল এই দিক থেকে, যেহেতু এটা ফরজ বা ওয়াজিব নয়। আর যেহেতু রাসুল (সা.) আদায় করেছেন, সেহেতু এটি সুন্নাহ।


তাহাজ্জুদ নামাজ নবীজি (সা.) নিয়মিত পড়তেন।

আবূ নু’আইম (রহঃ) … মুগীরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রি জাগরণ করতেন অথবা রাবী বলেছেন, সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন; এমনকি তাঁর পদযুগল অথবা তাঁর দু’ পায়ের গোছা ফুলে যেত। তখন এ ব্যাপারে তাঁকে বলা হল, এত কষ্ট কেন করছেন? তিনি বলতেন, তাই বলে আমি কি একজন শুকরগুযার বান্দা হব না? (সহীহ্ বুখারী, ২য় খন্ডঃ ১০৬৩)


তাহাজ্জুদকে নবীজি শয়তান থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে দেখেছেন।


আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার গ্রীবাদেশে তিনটি গিট দেয়। প্রতি গিটে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত। তারপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে একটি গিঠ খুলে যায়, পরে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলে আর একটি গিঠ খুলে যায়, তারপর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলে আর একটি গিঠ খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয়, প্রফুল্ল মনে ও নির্মল চিত্তে। অন্যথায় সে সকালে উঠে কলুষিত মনে ও অলসতা নিয়ে। (সহীহ্ বুখারী, ২য় খন্ডঃ ১০৭৬)


শয়তান কিভাবে আমাদের বিরত রাখে রাতের নামাজ থেকে?


মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে এক ব্যাক্তির সম্পর্কে আলোচনা করা হল- সকাল বেলা পর্যন্ত সে ঘুমিয়েই কাটিয়েছে, সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য (যথা সময়ে) জাগ্রত হয়নি, তখন (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করলেনঃ শয়তান তার কানে পেশাব করে দিয়েছে। । (সহীহ্ বুখারী, ২য় খন্ডঃ ১০৭৮)


তাহাজ্জুদের ফজিলত নিয়ে সহীহ্ বুখারীর হাদিসে একটি ব্যাখ্যা এসেছে।


আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ্ তা’আলা প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছ এমন যে, আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছ এমনে, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। (সহীহ্ বুখারী, ২য় খন্ডঃ ১০৭৯)


আরো পড়ুন : 

১। জন্মদিন পালনে ইসলাম কী বলে?

২। ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়ে যা জানতেই হবে

৩। স্বপ্নে কী এমন ভয়ংকর শাস্তি দেখেছিলেন রাসূল (সা.)? 

৪। সালামের সঠিক নিয়ম না জেনে গুনাহ করছেন?

৫। ফেসবুকে মেয়েদের ছবি দেখার আগে সাবধান