বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সাম্প্রতিক ভ্যারিয়েন্ট 'ওমিক্রন' শনাক্ত হয়েছে। আফ্রিকা মহাদেশ থেকে গত মাসে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটির নতুন এই ধরণে শনিবার বাংলাদেশে দুইজন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
বিজ্ঞানীদের মতে, এখনও পর্যন্ত ওমিক্রনে যে ক'জন শনাক্ত হয়েছেন তাদের সকলের মধ্যেই মৃদু উপসর্গই দেখা গিয়েছে। পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রথম ওমিক্রন আক্রান্ত ছিলেন একজন ৬৬ বছর বয়সি আফ্রিকার বাসিন্দা। তাঁর শরীরে ছিল না কোনও রোগ লক্ষণ। বর্তমানে তাঁর করোনা নেগেটিভ রিপোর্টও চলে এসেছে। এই ভাইরাসের কবলে পড়া ভারতের দ্বিতীয় মানুষটি সামান্য উপসর্গ ছিল। তবে তিনি ওমিক্রন সংক্রমিত কোনো দেশে যান নি সাম্প্রতিক সময়ে, ছিলেন দেশেই।
ভারতে ওমিক্রনে আক্রান্ত তৃতীয় রোগীর ছিল গলা ব্যথা ও দুর্বলতা। পাশাপাশি অনেকের গায়ে ব্যথাও থাকছে। সঙ্গে জ্বর থাকাও স্বাভাবিক।
ওমিক্রনের নানান উপসর্গ সম্পর্কে দেশটির বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: আশিস মিত্র বলছেন, গলা ব্যথা, গায়ে ব্যথা, দুর্বলতা, জ্বর, হাঁচি, কাশি, সর্দি- যাই থাকুক না কেন করোনা টেস্ট করান। ওমিক্রনকেও এই পদ্ধতিতেই চিনতে হবে।
করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে প্রথম সতর্কতা জারি করা দক্ষিণ আফ্রিকার চিকিৎসক অ্যাঞ্জেলিক কোয়েৎজি জানিয়েছেন, তার কাছে চিকিৎসা নেওয়া সন্দেহভাজন কয়েকজন ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীর শরীরে শুধু মৃদু উপসর্গ দেখা গেছে। তারা হাসপাতালে ভর্তি না হয়েই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
কোয়েৎজি আরও বলেন, তাদের শরীরে সামান্য যে অপরিচিত উপসর্গ দেখেছি, সেটি হলো চরম ক্লান্তি। তবে তরুণ রোগীদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গ ছিল একেবারে অস্বাভাবিক।
তিনি আরও বলেন, রোগীদের বেশিরভাগই পুরুষ, যাদের বয়স ৪০ বছরের নিচে। তাদের অর্ধেকই করোনা টিকার পূর্ণ ডোজ নিয়েছিলেন। তাদের পেশীতে মৃদু ব্যথা, গলায় খুসখুস ভাব ও শুকনো কাশি ছিল। মাত্র অল্প কয়েকজনের শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বেশি ছিল।
| ওমিক্রনের কারণে আবারও বন্ধ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান?
ডেল্টা আক্রান্তদের মতো ওমিক্রনে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত স্বাদ-গন্ধ হারিয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেনি। এমনকি এই ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে করোনা রোগীর রক্তে অক্সিজেন মাত্রাও হঠাৎ নেমে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের এই ভ্যারিয়েন্টটি অন্তত ৩২টি মিউটেশন (জিনগত গঠনের পরিবর্তন) ঘটিয়েছে - যার বৈজ্ঞানিক নাম বি.১.১.৫২৯।
ওমিক্রন নিয়ে বিজ্ঞানীরা যে কারণে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন তা হলো: এটি অত্যন্ত দ্রুত এবং সহজে ছড়াতে পারে এবং মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এড়াতে পারে - যার ফলে এর বিরুদ্ধে টিকা কম কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে ।
এই লেখাগুলো মিস করবেন না যেন!
| ফ্রি ফেসবুক ব্যবহার করবেন যেভাবে
| স্তন ক্যান্সার নিয়ে কতটা জানেন?