দাজ্জাল নামের অস্বাভাবিক এক ব্যক্তির আগমন ঘটবে কিয়ামতের আগে। কিয়ামতের আগে রাসূল (সা.) যে ১০টি বড় বড় চিহ্নের কথা উল্লেখ করেছেন, সেগুলো কিয়ামতপূর্ব সুস্পষ্ট নিদর্শন। এর পরই সরাসরি কিয়ামত হয়ে যাবে। এরপর কিয়ামতের জন্য আর অপেক্ষা করার থাকবে না। ঠিক কিয়ামতের আগে একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের এই ১০টি চিহ্ন মানে যে চিহ্নগুলো শুরু হবে, তার মধ্যে দাজ্জাল, খুরুযে দাজ্জাল হচ্ছে মূলত একেবারে প্রথম পর্যায়ের উপসর্গ। যেখানে খুরুযে দাজ্জালের আগমনের কথা সবাই জানবে। তখন ইমানদার ব্যক্তিরাও জানবে এবং বেইমান কাফেররাও জানবে।
নামাজ-রোযার স্থায়ী সময় সূচী
বলা হয়ে থাকে, দাজ্জাল মানবজাতিরই একজন হবেন। মুসলমানদের কাছে তারপরিচয় তুলে ধরার জন্য এবং তার ফিতনা থেকে তাদেরকে সতর্ককরার জন্য বিভিন্ন সহীহ হাদিসে শেষ নবী রাসূল (সাঃ) তার পরিচয় সম্পর্কেবিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। দাজ্জাল কেমন হবেন দেখতে?
মিনিকেট নামে কোনো চাল নেই!
বুখারী শরীফের এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (সাঃ) দাজ্জালকে স্বপ্ন দেখিয়ে তার শারীরিক গঠনের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, দাজ্জাল হবেন বৃহদাকার একজন যুবক পুরুষ। শরীরের রং হবে লাল। বেঁটে গড়নে, মাথার চুল হবে কোঁকড়া। কপাল হবে উঁচু, বক্ষ হবে প্রশস্ত। চোখ থাকবে ট্যারা।
অন্য এক হাদিসে এসেছে, দাজ্জাল নির্বংশ হবেন। তার কোনো সন্তান থাকবে না। বিভিন্ন হাদিসে দাজ্জালের চোখ অন্ধ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। কোন চোখ সেটি নিয়ে অবশ্য নানান মতভেদ রয়েছে। তবে ডান চোখ অন্ধ হওয়ার হাদিসগুলো বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে।
দাজ্জালকে চেনার সবচেয়ে বড় আলামত হলো তার কপালে কাফের লেখা থাকবে। অপর বর্ণনায় এসেছে, তার কপালে “কাফ”, “ফা”, “রা” এই তিনটি হরফ লেখা থাকবে। শিক্ষিত-অশিক্ষিত সকল মুসলিম ব্যক্তিই তা পড়তে পারবে। তবে কাফের ও মুনাফেক শ্রেণীর লোক তা দেখেও পড়তে পারবে না।
দাজ্জালের উদয় হবে কোথায় সে প্রসঙ্গও এসেছে হাদিসে। দাজ্জালের আগমণ ঘটবে পূর্ব দিকের পারস্য থেকে। স্থানটির নাম হবে খোরাসান। খোরাসান মধ্য এশিয়ার একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল। খোরাসানের একটি প্রসিদ্ধ এলাকা ছিল ‘ইসফাহান’। বর্তমান ইরানের জাগ্রোস পর্বতমালার পাদদেশে জায়েন্দে নদীর তীরে শহরটি অবস্থিত। নবীজি (সা.) এর অন্য এক হাদিসে দাজ্জাল প্রকাশের স্থান খোরাসানের ইসফাহানকে সুর্নিদিষ্ট করেছেন। আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘দাজ্জাল ইসফাহানের ইহুদিয়া থেকে বের হবে। ’ সেখান থেকে বের হয়ে সমগ্র দুনিয়া ভ্রমণ করবে সে।
ফাতিমা বিনতে কায়িস (রাঃ) হতে বর্ণিত, সহীহ মুসলিমের এক দীর্ঘ হাদিসে দাজ্জালের সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, অচিরেই দাজ্জালকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। সে বের হয়ে ৪০ দিনের ভেতরে পৃথিবীর সমস্ত দেশ ভ্রমণ করবে। তবে মক্কা-মদিনায় প্রবেশ করা তার জন্য নিষিদ্ধ থাকবে। দাজ্জালের একমাত্র গন্তব্য মদিনা হলেও সে তাতে প্রবেশ করতে পারবে না। তবে সে মদিনার বাহিরে জুরুফের এক অনুর্বর লবণাক্ত ভূমিতে অবতরণ করবে এবং এখানেই সে তার শিবির স্থাপন করবে। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত যে নবীজি (সা.) বলেছেন, দাজ্জাল মদিনা আক্রমণের উদ্দেশে এসে উহুদ পাহাড়ের পশ্চাতে অবতরণ করবে এবং ফেরেশতারা তার গতি সিরিয়ার দিকে ফিরিয়ে দেবে আর সেখানেই সে ধ্বংস হবে।
ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রা কেন ৪০ বছর এফবিআইয়ের নজরবন্দী ছিলেন?
রাসূল (সাঃ) বলেছেন, মদিনাতে দাজ্জালের ত্রাস ও ভীতি প্রবেশ করতে পারবে না। ঐ সময়
মদিনাতে সাতটি প্রবেশ পথ থাকবে। প্রত্যেক পথে দুইজন করে ফেরেশতা মোতায়েন থাকবে।
৪০ দিন অবস্থানের প্রথম দিনটি হবে এক বছরের সমান লম্বা। দ্বিতীয় দিনটি
হবে এক মাসের মতো দীর্ঘ। তৃতীয় দিনটি হবে এক সপ্তাহের মতো দীর্ঘ। আর বাকি
দিনগুলো দুনিয়ার স্বাভাবিক দিনের মতোই সমান হবে।
অর্থাৎ ৪০ দিনের অবস্থান প্রকৃতপক্ষে দুনিয়ার ৪৩৯ দিন বা এক বছর
এক মাস ৪৪ দিনের সমান।
দাজ্জাল কিছু ক্ষমতার ব্যবহার করবেন, যা দেখে মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়বে।
নাওয়াজ বিন সামান থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) কে দাজ্জালের চলার গতিপ্রকৃতি
সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, দ্রুতগামী বাতাস বৃষ্টিকে যেভাবে চালিয়ে নেয়,
দাজ্জালের চলার গতিও সেরকম হবে।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, সে সাথে করে জান্নাত ও
জাহান্নামের দুইটি কৃত্রিম ছবি নিয়ে আসবে। অতএব যাকে সে বলবে, যে এটি জান্নাত,
প্রকৃতপক্ষে সেটি হবে জাহান্নাম। দাজ্জাল তার কর্মকান্ডে শয়তানের সহযোগিতা নিবে।
ভারতবর্ষে যে ১০ জন মুসলমান রাজা আলোচিত ছিলেন
রাসূল (সাঃ) বলেছেন, দাজ্জাল মানুষের কাছে গিয়ে বলবে, আমি যদি তোমার মৃত
পিতা-মাতাকে জীবিত করে দেখাই, তাহলে তুমি কি আমাকে প্রভু হিসেবে মানবে?
মানুষ বলবে, অবশ্যই মানবো। এই সুযোগে শয়তান তার পিতা-মাতার আকৃতি ধরে
সন্তানকে বলবে, হে সন্তান, তুমি তার অনুসরণ করো, সে তোমার প্রতিপালক।
রাসূল (সাঃ) বলেছেন, দাজ্জাল এক জনসমাজে গিয়ে মানুষকে তার প্রতি ঈমান
আনয়নের জন্য আহ্বান জানাবেন। এতে তারা ঈমান আনবে। দাজ্জাল তাদের উপর
বৃষ্টি বর্ষণ করানোর জন্য আকাশকে আদেশ দিবে। আকায় বৃষ্টি বর্ষণ করবে।
জমিন ফসল উৎপাদন করবে।
এবং তাদের পশুর পাল, চতুষ্পদ জন্তুগুলো অধিক মোটাতাজা হবে, পূর্বের
তুলনায় বেশি দুধ দিবে। অতএব অন্য একটি জনসমাজে গিয়ে মানুষকে তার প্রতি ঈমান
আনয়নের জন্য আহ্বান জানাবেন।
লোকেরা তার কথা প্রত্যাখান করবে। দাজ্জাল তাদের নিকট থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসবে।
এতে তারা চরমভাবে অভাবে পড়বে। তাদের ক্ষেত খামারে ফসল উৎপাদন কমতে থাকবে।
দাজ্জাল পরিত্যক্ত জমিকে তার নিচে লুকায়িত গুপ্তধন বের করতে বলবে।
গুপ্তধন বের হয়ে মৌমাছির দলের মতো তার পেছন পেছন চলতে থাকবে।
রাসূল (সাঃ) বলেছেন, দাজ্জালের অধিকাংশ অনুসারী হবে ইহুদি এবং মহিলা। তিনি আরও
বলেন, ইস্পাহানের ৭০ হাজার ইহুদি দাজ্জালকে অনুসরণ করবে। তাদের
সবার পরনে থাকবে
সেলাই বিহীন চাদর।
সহীহ হাদিসের বিবরণ বলছে, ঈসা ইবনে মারিয়াম (আঃ) এর হাতে দাজ্জাল নিহত হবেন।
তার অনুসারীর সংখ্যা হবে প্রচুর। সমগ্র দুনিয়ায় তারা ফিতনা ছড়িয়ে দিবে। সামান্য সংখ্যক
মুমিনই তার ফিতনা থেকে রেহাই পাবে।
ঠিক সে সময় দামেস্ক শহরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত এক মসজিদের সাদা মিনারের উপর
ঈসা (আঃ) আকাশ থেকে অবতরণ করবেন। মুসলমানগণ তার পাশে একত্রিত হবেন।
তাদেরকে সাথে নিয়ে তিনি দাজ্জালের মুখোমুখি হতে রওয়ানা হবেন। দাজ্জাল সে সময়
বায়তুল মাকদিসের দিকে অগ্রসর হতে থাকবে। অতঃপর ঈসা (আঃ) ফিলিস্তিনের লূত
শহরের মূল ফটকে দাজ্জালে পাকড়াও করবেন। ঈসা (আঃ) কে দেখে দাজ্জাল
পানিতে লবণ
গলার ন্যায় গলতে শুরু করবে।
এমন করেই দাজ্জাল অধ্যায় শেষ হবে।
আরো পড়ুন :
১। জন্মদিন পালনে ইসলাম কী বলে?
২। ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়ে যা জানতেই হবে
৩। স্বপ্নে কী এমন ভয়ংকর শাস্তি দেখেছিলেন রাসূল (সা.)?
৪। সালামের সঠিক নিয়ম না জেনে গুনাহ করছেন?
৫। ফেসবুকে মেয়েদের ছবি দেখার আগে সাবধান